ঘরে বসে জমির বকেয়া খাজনা চেক করার নিয়ম ২০২৬

জমির খাজনা চেক করা যাবে এখন ঘরে বসেই- জমির মালিকানা ঠিক রাখতে এবং আইনি ঝামেলা এড়াতে নিয়মিত জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা প্রত্যেক বাংলাদেশী নাগরিকের দায়িত্ব। একটা সময় ছিল যখন জমির খাজনা কত বাকি আছে, তা জানার জন্য স্থানীয় ভূমি অফিসে গিয়ে দিনের পর দিন লাইন ধরতে হতো।

ঘরে বসেই জমির বকেয়া খাজনা চেক করার নিয়ম ২০২৬

দালালদের দৌরাত্ম্য, নথিপত্র খোঁজার ঝামেলা এবং বাড়তি টাকা খরচের ভয়ে অনেকেই বছরের পর বছর খাজনা বকেয়া রাখতেন।

কিন্তু সুখবর হলো, এখন আর সেই দিন নেই। "ডিজিটাল বাংলাদেশ" গড়ার অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয় এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় ভূমি সেবা পৌঁছে দিয়েছে। আপনি এখন ঘরে বসেই আপনার স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে দেখে নিতে পারেন আপনার জমির খাজনা কত টাকা বকেয়া আছে।

আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব  কীভাবে অনলাইনে জমির বকেয়া খাজনা চেক করবেন। কোনো প্রকার টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াই, খুব সহজ ভাষায় প্রতিটি ধাপ  সহজে বুঝতে পারবেন। 

কেন অনলাইনে জমির খাজনা চেক করা জরুরি?

মূল প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে একটু জেনে নেওয়া যাক, কেন আপনার এখনই অনলাইনে খাজনার স্থিতি চেক করা উচিত:

১. স্বচ্ছতা: তহশিল অফিসে গেলে অনেক সময় সঠিক হিসাব বুঝতে সমস্যা হয়। অনলাইনে আপনি একদম পাই-টু-পাই হিসাব দেখতে পাবেন।

২. সময়ের অপচয় রোধ: অফিসে যাওয়ার যাতায়াত খরচ এবং সময়—দুটোই বাঁচে।

৩. জরিমানা থেকে মুক্তি: দীর্ঘদিন খাজনা না দিলে বড় অংকের জরিমানা হয়। অনলাইনে চেক করে দ্রুত পরিশোধ করলে এই বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।

৪. মালিকানা নিশ্চিতকরণ: নিয়মিত খাজনা পরিশোধ জমির মালিকানা প্রমাণের একটি শক্তিশালী দলিল।

অনলাইনে খাজনা চেক করতে যা যা লাগবে

আপনার জমির বকেয়া খাজনা দেখার জন্য খুব বেশি কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই। হাতের কাছে নিচের তথ্যগুলো থাকলেই চলবে:

  • একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটার (ইন্টারনেট সংযোগসহ)।
  • আপনার জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজার নাম।
  • জমির খতিয়ান নম্বর অথবা হোল্ডিং নম্বর।
  • জমির মালিকের মোবাইল নম্বর (যেটি দিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে)।

ঘরে জমির খাজনা চেক করার উপায় সমূহ  

যদি আপনি জমির খাজনা চেক ঘরে বসে  করতে চান, তবে আপনার  কিছু   প্রয়োজনীয় কাগজপত্র  থাকলেই আপনি আপনার জমির খাজনা চেক করে নিতে পারবেন।  একজন বাংলাদেশী হিসেবে আপনার জমির  খাজনা পরিশোধ করা জরুরী কেননা আপনি যত দেরি করে খাজনা পরিশোধ করবেন । তত আপনার জমির   উপর  অতিরিক্ত জরিমানা বাড়তে থাকবে। তাই আজকে ব্লগ পোস্টটি পড়ে আপনি জেনে নিন আপনার  জমির খাজনা কত টাকা বাকি রয়েছে। নিম্নে ঘরে জমির খাজনা চেক করার উপায় সমূহ আলোচনা করা হলো- 

ধাপ ১: ব্রাউজার ওপেন করা এবং ওয়েবসাইটে প্রবেশ

প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে গুগল ক্রোম (Google Chrome) বা যেকোনো একটি ব্রাউজার ওপেন করুন। এরপর এড্রেস বারে গিয়ে লিখুন  land.gov.bd এবং এন্টার বা সার্চ বাটনে ক্লিক করুন।

ঘরে বসেই জমির বকেয়া খাজনা চেক করার নিয়ম

এটি বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। এখানে আপনি ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা এক ছাতার নিচে পাবেন।

ধাপ ২: ভূমি উন্নয়ন কর অপশনে যাওয়া

ওয়েবসাইটটি লোড হলে আপনি অনেকগুলো অপশন দেখতে পাবেন। এর মধ্যে থেকে "ভূমি উন্নয়ন কর" বা "নাগরিক কর্নার" অপশনটি খুঁজে বের করুন। সাধারণত পেজের একটু নিচের দিকে বা মেনু বারে এই অপশনটি থাকে।

সরাসরি যাওয়ার জন্য আপনি ব্রাউজারে  land.gov.bd লিখেও সার্চ করতে পারেন। তবে  ব্লগের  নির্দেশনা অনুযায়ী, মূল ওয়েবসাইট থেকে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সেখানে  "ভূমি উন্নয়ন কর" অপশনে ক্লিক করলে আপনাকে লগইন পেজে নিয়ে যাওয়া হবে।

ধাপ ৩: লগইন প্রক্রিয়া (Login Process)

বকেয়া খাজনা দেখার জন্য আপনাকে সিস্টেমে লগইন করতে হবে। লগইন পেজে তিনটি ঘর দেখতে পাবেন:

১. মোবাইল নম্বর: যে নম্বর দিয়ে আপনার একাউন্ট খোলা আছে।

২. পাসওয়ার্ড: আপনার একাউন্টের গোপন পিন বা পাসওয়ার্ড।

৩. ক্যাপচা (Captcha): এটি একটি নিরাপত্তা কোড। স্ক্রিনে যে আঁকাবাঁকা ইংরেজি অক্ষর বা সংখ্যাগুলো দেখা যাবে, তা হুবহু নিচের ঘরে টাইপ করতে হবে।

ঘরে বসেই জমির বকেয়া খাজনা চেক করার নিয়ম

সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর নিচে থাকা "লগইন" (Login) বাটনে ক্লিক করুন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার যদি আগে থেকে একাউন্ট খোলা না থাকে, তবে "রেজিস্ট্রেশন করুন" অপশনে গিয়ে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে খুব সহজেই একাউন্ট খুলে নিতে  পারেন। আর একাউন্ট খোলার বিষয়ে বিস্তারি জানতে চাইলে  এই পোস্টের নিচে মন্তব্য করতে পারেন। 

ধাপ ৪: ড্যাশবোর্ড পরিচিতি

সফলভাবে লগইন করার পর আপনি আপনার প্রোফাইলের "ড্যাশবোর্ড" (Dashboard) দেখতে পাবেন। এখানে আপনার নাম, ছবি এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে।

ঘরে বসেই জমির বকেয়া খাজনা চেক করার নিয়ম

ড্যাশবোর্ডের মেনু থেকে "ভূমি উন্নয়ন কর" অপশনে ক্লিক করুন। এরপর সাব-মেনু থেকে "প্রতিনিধি পেমেন্ট" " অপশনটি সিলেক্ট করুন। এই অপশনটিই আপনাকে আপনার জমির বিস্তারিত হিসাব বের করতে সাহায্য করবে।

ঘরে বসেই জমির বকেয়া খাজনা চেক করার নিয়ম

ধাপ ৫: জমির তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান

এখন একটি ফরম আসবে যেখানে আপনাকে ধাপে ধাপে জমির অবস্থান সিলেক্ট করতে হবে। এই ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই সাবধানে পূরণ করুন:

১. বিভাগ নির্বাচন: আপনার জমিটি যে বিভাগের অধীনে (যেমন: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ইত্যাদি), সেটি ড্রপডাউন মেনু থেকে সিলেক্ট করুন।

২. জেলা নির্বাচন: এরপর সংশ্লিষ্ট জেলা সিলেক্ট করুন।

৩. উপজেলা/সার্কেল: আপনার জমিটি যে উপজেলার অধীনে, তা নির্বাচন করুন।

৪. মৌজা নির্বাচন: জমির দলিলে বা পর্চায় মৌজার নাম লেখা থাকে। সেই অনুযায়ী মৌজা সিলেক্ট করুন।

প্রো-টিপ (Pro Tip): অনেক সময় মৌজার নাম দিয়ে খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে বা বানান ভিন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে JL নম্বর (Jurisdiction List Number) দিয়ে খোঁজা সবচেয়ে সহজ। আপনার জমির পর্চার একদম উপরে ডান বা বাম কোণায় এই JL নম্বরটি লেখা থাকে। ব্লগে  যেমন দেখানো হয়েছে, মৌজা সিলেক্ট করার সময় নামের পাশে এই নম্বরটি মিলিয়ে নিন।

রে বসেই জমির বকেয়া খাজনা চেক করার নিয়ম

ধাপ ৬: খতিয়ান বা হোল্ডিং নম্বর এন্ট্রি

মৌজা সিলেক্ট করার পর নিচে দুটি অপশন দেখতে পাবেন:

  • খতিয়ান নং
  • হোল্ডিং নং

আপনার কাছে যদি হোল্ডিং নম্বর থাকে (সাধারণত আগের দেওয়া খাজনার রসিদে এটি থাকে), তবে সেটি দিয়ে সার্চ করা সবচেয়ে ভালো। আর যদি হোল্ডিং নম্বর জানা না থাকে, তবে   খতিয়ান নম্বর সিলেক্ট করুন।

আরও পড়ুন: ফরম নাম্বার দিয়ে আইডি কার্ড বের করার নিয়ম 

আপনার জমির পর্চা বা রেকর্ডের ওপর বড় করে "খতিয়ান নং" লেখা থাকে (যেমন: খতিয়ান নং ১৩৩)। সেই নম্বরটি নির্দিষ্ট ঘরে ইংরেজিতে বা বাংলায় টাইপ করুন। 

রে বসেই জমির বকেয়া খাজনা চেক করার নিয়ম


সবশেষে, পাশে থাকা "অনুসন্ধান করুন" বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৭: বকেয়া খাজনার হিসাব বুঝুন (খুবই গুরুত্বপূর্ণ)

"অনুসন্ধান করুন" বাটনে ক্লিক করার পর, যদি আপনার দেওয়া তথ্য সঠিক থাকে, তবে নিচে জমির মালিকের নাম এবং খাজনার বিস্তারিত তথ্য চলে আসবে। 

রে বসেই জমির বকেয়া খাজনা চেক করার নিয়ম

এখানে বেশ কিছু জটিল শব্দ থাকতে পারে। আসুন ব্লগের আলোকে সেগুলো সহজ করে বুঝে নিই:

১. সর্বশেষ কর পরিশোধের সাল

এখানে দেখতে পাবেন আপনি শেষ কত সালে খাজনা দিয়েছিলেন। যেমন: ২০১৫-২০১৬। এর মানে হলো, এরপর থেকে আপনি আর খাজনা দেননি।

২. বকেয়া বছর

আপনার কত বছরের খাজনা বাকি আছে, তা এখানে স্পষ্ট লেখা থাকবে। ব্লগের উদাহরণে দেখা গেছে   ৯ বছরের খাজনা বকেয়া রয়েছে।

৩. বকেয়া দাবি (Arrears)

গত বছরগুলো মিলিয়ে মূল কত টাকা খাজনা হিসেবে বাকি আছে, সেটি হলো "বকেয়া দাবি"। ব্লগেরদেখা গেছে এটি ছিল ৩৪২০ টাকা।

৪. বকেয়া দাবির জরিমানা (Fine/Interest)

সঠিক সময়ে খাজনা না দিলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে সুদ বা জরিমানা যুক্ত হয়। ৯ বছর ধরে না দেওয়ার কারণে ব্লগের ৭৫০ টাকা জরিমানা দেখানো হয়েছে।

৫. হাল দাবি (Current Year Tax)

চলমান বছরের (যেমন ২০২৪-২৫ অর্থবছর) জন্য যে খাজনা ধার্য করা হয়েছে, তাকে হাল দাবি বলে। ব্লগেরএটি ছিল ৬৯২ টাকা। 

৬. সর্বমোট দাবি (Total Payable)

বকেয়া টাকা + জরিমানা + চলতি বছরের টাকা = সব মিলিয়ে আপনাকে এখন কত টাকা পরিশোধ করতে হবে। ভিডিওর উদাহরণে সর্বমোট টাকা ছিল ৪৮৬২ টাকা।

অর্থাৎ, এই ৪৮৬২ টাকা পরিশোধ করলেই আপনার জমিটি হালনাগাদ বা আপ-টু-ডেট হয়ে যাবে।

ধাপ ৮: জমির বিস্তারিত তথ্যাবলি দেখা

শুধু টাকার অংক নয়, আপনি চাইলে এই সিস্টেম থেকে জমির পরিমাণ এবং ধরণও যাচাই করতে পারেন। স্ক্রিনে "জমির তথ্যাবলি" নামে একটি ট্যাব বা বাটন থাকে। সেখানে ক্লিক করলে আপনি দেখতে পাবেন:

  • দাগ নম্বর: জমির দাগ নম্বর কত।
  • জমির শ্রেণি: এটি কি নাল জমি, নাকি বাড়ি, নাকি পুকুর? (ভিডিওতে 'বাড়ি' এবং 'নাল' শ্রেণির কথা উল্লেখ আছে)।
  • জমির পরিমাণ: মোট কত শতাংশ বা একর জমি আপনার নামে রেকর্ডভুক্ত আছে।
  • ব্যবহার: জমিটি আবাসিক কাজে নাকি কৃষি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই তথ্যগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কৃষি জমি এবং অকৃষি বা আবাসিক জমির খাজনার হার ভিন্ন ভিন্ন হয়। এখানে যদি কোনো ভুল দেখেন, তবে দ্রুত স্থানীয় ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে সংশোধন করা উচিত।

সাধারণ কিছু সমস্যার সমাধান (Troubleshooting)

অনলাইনে খাজনা চেক করতে গিয়ে অনেকেই কিছু সাধারণ সমস্যায় পড়েন। আসুন জেনে নিই সেগুলোর সমাধান:

১. "তথ্য পাওয়া যায়নি" দেখাচ্ছে কেন?

এর কয়েকটি কারণ হতে পারে:

  • হয়তো আপনার জমির তথ্য এখনো অনলাইনে আপলোড বা এন্ট্রি করা হয়নি।
  • আপনি ভুল মৌজা বা ভুল খতিয়ান নম্বর দিয়েছেন।
  • আপনার জমিটি খাস খতিয়ানভুক্ত বা সরকারি সম্পত্তির অংশ হতে পারে।

সমাধান: তথ্য সঠিক দেওয়ার পরেও না আসলে, আপনার খতিয়ান ও আগের দাখিলা (রসিদ) নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে "হোল্ডিং এন্ট্রি" করিয়ে নিতে হবে।

২. মোবাইল নম্বর হারিয়ে গেলে কী করব?

যেহেতু লগইন করতে মোবাইল নম্বর লাগে, তাই এটি হারিয়ে গেলে সমস্যা। সেক্ষেত্রে ভূমি অফিসের হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে কল করে বা অফিসে গিয়ে নম্বর পরিবর্তন করতে পারেন।

৩. টাকার অংক কি ভুল হতে পারে?

সাধারণত সফটওয়্যার অটোমেটিক হিসাব করে, তাই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে যদি দেখেন আপনার জমি কৃষি কিন্তু খাজনা দেখাচ্ছে অকৃষি বা বাণিজ্যিক হারে, তবে বুঝতে হবে জমির শ্রেণি এন্ট্রিতে ভুল আছে। এটি সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে।

কেন এখনই আপনার বকেয়া চেক করা উচিত?

অনেকেই ভাবেন, "যখন জমি বিক্রি করব বা নামজারি করব, তখন একবারে খাজনা দিয়ে দেব।" এটি একটি মস্ত বড় ভুল ধারণা।

  • জরিমানা বৃদ্ধি: যত দেরি করবেন, জরিমানার অংক তত বাড়বে। চক্রবৃদ্ধি হারে এই জরিমানা বাড়তে থাকে।
  • নিলামের ঝুঁকি: দীর্ঘদিন (সাধারণত ৩ বছরের বেশি) খাজনা অনাদায়ে সরকার চাইলে সার্টিফিকেট মামলা করতে পারে বা জমি নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে (যদিও এটি বিরল, তবে আইনে আছে)।
  • নামজারিতে জটিলতা: বকেয়া খাজনা থাকলে আপনি জমির মিউটেশন বা নামজারি করতে পারবেন না। এমনকি হেবা বা দানপত্র দলিল করতে গেলেও হালনাগাদ খাজনার রসিদ লাগে।

অনলাইনে জমির খাজনা চেক

প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আর তহশিল অফিসে গিয়ে ভিড় করার প্রয়োজন নেই। আপনি ঘরে বসেই আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে জমির খাজনা চেক করতে পারেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল পোর্টালে লগইন করে আপনার জমির খতিয়ান বা হোল্ডিং নম্বর দিলেই বিগত বছরের বকেয়া এবং চলতি বছরের হাল দাবি খুব সহজেই দেখা যায়। এটি সময় বাঁচায় এবং দালালদের খপ্পর থেকে মুক্তি দেয়।

১ শতাংশ জমির খাজনা কত ২০২৪

অনেকেই গুগলে সার্চ করেন যে, ১ শতাংশ জমির খাজনা কত ২০২৪ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী। মূলত জমির খাজনা নির্দিষ্ট কোনো ফিক্সড রেট নয়; এটি নির্ভর করে আপনার জমিটি কোন এলাকায় অবস্থিত তার ওপর। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে এই রেট ভিন্ন ভিন্ন হয়। সাধারণত গ্রাম এলাকায় আবাসিক জমির খাজনা প্রতি শতক ৪০ টাকা থেকে শুরু হতে পারে, তবে বাণিজ্যিক বা শহরের জমির ক্ষেত্রে এই অংকটি ৩০০ টাকা বা তার বেশিও হতে পারে। সঠিক হিসাব জানতে অনলাইনে চেক করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কৃষি জমির খাজনা কত

বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের সুবিধার্থে ভূমি উন্নয়ন করে বিশেষ ছাড় দিয়েছে। আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, বর্তমানে কৃষি জমির খাজনা কত? নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মালিকানায় যদি ২৫ বিঘা (৮.২৫ একর) বা তার কম কৃষি জমি থাকে, তবে তাকে কোনো খাজনা দিতে হয় না। তবে ২৫ বিঘার বেশি জমি থাকলে তখন নির্দিষ্ট হারে কর প্রযোজ্য হবে। আপনার জমিটি রেকর্ডে 'কৃষি' নাকি 'অকৃষি' হিসেবে আছে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই খাজনা নির্ধারিত হয়।

জমির খাজনা ক্যালকুলেটর

আগে খাজনার হিসাব বের করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম খেত। কিন্তু এখন ভূমি উন্নয়ন করের ওয়েবসাইটের বিল্ড-ইন জমির খাজনা ক্যালকুলেটর আপনার কাজ সহজ করে দিয়েছে। আপনাকে আলাদা করে কোনো অংক কষতে হবে না। সিস্টেমে আপনার জমির পরিমাণ, ব্যবহারের ধরন (কৃষি/আবাসিক/বাণিজ্যিক) এবং অবস্থান ইনপুট দিলেই সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার মোট বকেয়া এবং সুদ বা জরিমানা হিসাব করে দেখিয়ে দেয়।

অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম

শুধু হিসাব দেখাই নয়, অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম এখন অত্যন্ত সহজ ও নিরাপদ। আপনার বকেয়া চেক করার পর পেমেন্ট অপশনে গিয়ে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় বা যেকোনো ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে মুহূর্তেই খাজনা পরিশোধ করতে পারেন। পেমেন্ট সফল হলে সাথে সাথেই একটি ডিজিটাল দাখিলা বা রসিদ পাওয়া যায়, যা প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করা জরুরি। এই অনলাইন দাখিলা এখন সব সরকারি ও আইনি কাজে শতভাগ গ্রহণযোগ্য।

শেষ কথা: ঘরে বসেই জমির বকেয়া খাজনা চেক করার নিয়ম

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আজ থেকে ১০ বছর আগেও যা কল্পনা করা যেত না, এখন তা ঘরে বসেই সম্ভব। ভিডিওটিতে যেমন দেখানো হয়েছে, মাত্র কয়েকটি ক্লিক করেই আপনি আপনার বহু বছরের বকেয়া খাজনার হিসাব বের করে ফেললেন।

আপনি যদি একজন সচেতন নাগরিক হন, তবে আজই আপনার বা আপনার বাবার নামে থাকা জমির স্ট্যাটাস চেক করুন। বকেয়া থাকলে তা অনলাইনেই (বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে) পরিশোধ করে ফেলুন এবং অনলাইনে তৎক্ষণাৎ দাখিলা বা রসিদ সংগ্রহ করুন। এই অনলাইন দাখিলা এখন সব জায়গায় গ্রহণযোগ্য।

জমির নিরাপত্তা আপনার নিজের হাতে। অলসতা না করে আজই চেক করুন এবং নিশ্চিন্ত থাকুন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

বিজ্ঞাপন